স্বাগত


আমি তিলক গুপ্ত, পেশায় তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, আর অন্তরে সঙ্গীতের আজীবন ছাত্র ও অনুরাগী। এই ওয়েবসাইট আমার নিজের এক ছোট্ট পরিসর, যেখানে সুর, স্মৃতি, সৃষ্টির টুকরো এবং জীবনের প্রিয় মানুষগুলির গল্প একসঙ্গে এসে মেশে।

 

কলকাতায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা। শৈশবেই বাবা ও আমার প্রথম গুরু বিভূতিনাথ গুপ্তের হাত ধরে ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত, রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি ও হিমাংশু দত্তের সৃষ্টির সঙ্গে পরিচয়।

 

পনেরো বছর বয়সে আচার্য চিন্ময় লাহিড়ী, পরে শ্যামল লাহিড়ীর কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম। সুবিনয় রায় ও মায়া সেনের কাছে রবীন্দ্রসঙ্গীতের শিক্ষা এবং কলকাতার ‘গীতবিতান’ থেকে গীতাভারতী ডিগ্রি। বাংলা আধুনিক গানও বরাবরই আমার সঙ্গীতজীবনের এক প্রিয় অধ্যায়; এই ধারায় বিমান মুখোপাধ্যায়ের কাছেও তালিম নেওয়ার সুযোগ হয়েছে।

 

পেশাগত জীবনের দীর্ঘ বিরতির পর ২০১৫ সালে আবার ফিরি সঙ্গীতের কাছে—কবীর সুমনের সান্নিধ্যে। তাঁর কাছে শেখা শুধু গান বা সুরের পাঠ নয়; গানকে জীবন, সমাজ ও মানুষের অভিজ্ঞতার আলোয় নতুন করে দেখা। সেই শিক্ষা আমার শ্রবণ ও সঙ্গীতভাবনাকে গভীরভাবে বদলে দিয়েছে। ২২ এপ্রিল ২০১৭—কলাকুঞ্জে “তোমাকে চাই” -এর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে কবীর সুমনের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া—আমার সংগীতজীবনের এক অবিস্মরণীয় স্বপ্নপূরণ।

 

হলদিয়া উৎসব, কসবা উৎসব, পশ্চিমবঙ্গ বইমেলা-সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার সুযোগ পেয়েছি। শুভেন্দু মাইতি, সংঘমিত্রা গুপ্ত ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের মতো শিল্পীদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নেওয়া আমার পথচলার মূল্যবান স্মৃতি। বিশেষত প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের সান্নিধ্য ও সহযোগিতা আমার সঙ্গীতভাবনায় গভীর ছাপ রেখেছে।

 

আমার পরিবেশনা সম্প্রচারিত হয়েছে আকাশবাণী, দূরদর্শন ও বিভিন্ন এফএম রেডিওতে। ২০১২ সালে সহশিল্পী সারা চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘অনন্য মিউজিক’ থেকে প্রকাশিত হয় আমার প্রথম সিডি “অঙ্গে বাজিছে বাঁশি”।

 

আমার গল্পের গভীরে রয়েছে পরিবার, শিক্ষা ও কলকাতার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার। বাবা বিভূতিনাথ গুপ্ত ছিলেন শিক্ষক ও সঙ্গীতশিল্পী; মা ইন্দিরা গুপ্ত ছিলেন পাঠক, লেখিকা ও আমার জীবনের এক অকুণ্ঠ প্রেরণা। আমার জীবনসঙ্গী গোপা আজ আমাদের মাঝে নেই। কোভিড-১৯ মহামারিতে তাঁকে হারালেও তাঁর ভালোবাসা, উষ্ণতা ও স্মৃতি আমাদের জীবনে আজও জীবন্ত। আমাদের মেয়ে দময়ন্তী (টুপুর) শিক্ষকতা করছে; তার চোখ দিয়ে পৃথিবীকে আজও নতুন করে দেখতে শিখি।

 

এই যাত্রায় বন্ধুত্বও এসেছে সুরের হাত ধরে। পেশাগত দায়বদ্ধতার কারণে কিছু বছর সঙ্গীতচর্চায় বিরতি পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে, আমার  বন্ধু সুজয় সরকারের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করি। সুজয়  আমাকে আবার সঙ্গীতের সঙ্গে পুনঃসংযোগ করায়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সুজয়কে আমরা অকালে হারিয়েছি ।

 

সঙ্গীত আমার কাছে শুধু গান নয়; স্মৃতি, সম্পর্ক, শিক্ষা এবং জীবনকে অনুভব করার এক নিজস্ব ভাষা। যাঁরা এই পথচলায় পাশে থেকেছেন; গুরু, বন্ধু, সহশিল্পী, সহকর্মী, রেকর্ডিস্ট ও শুভাকাঙ্ক্ষী, সকলের প্রতি রইল আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।